মরক্কোকে টপকে গ্রুপের শীর্ষস্থান দখল করার লক্ষ্য নিয়ে মাঠে নেমেছিল ব্রাজিল। ম্যাচের শুরুতেই অফসাইডের খাঁড়ায় গোল বাতিল হলেও, আক্রমণাত্মক ফুটবল খেলে হাইতিকে - গোলে উড়িয়ে দিয়েছে সেলেসাওরা। ব্রাজিলের এই দাপুটে জয়ের নায়ক মাথিউস কুনহা রিয়াল মাদ্রিদ তারকা ভিনিসিয়ুস জুনিয়র।

 

ম্যাচের শুরু থেকেই হাইতির রক্ষণভাগের ওপর চড়াও হয়ে খেলতে থাকে ব্রাজিল। ১৩ মিনিটে দানিলোর পাস থেকে রাফিনহা চমৎকার এক বুলেট গতির শটে হাইতির গোলরক্ষক প্লেসিডকে পরাস্ত করলে উল্লাসে ফেটে পড়ে স্টেডিয়াম। তবে লাইন্সম্যান অফসাইডের পতাকা তোলায় সেই গোল বাতিল হয়ে যায়। এর কিছুক্ষণ পর ২২ মিনিটে আবারও অফসাইডের ফাঁদে পড়েন রাফিনহা।

 

বারবার অফসাইডের ধাক্কা সামলে ২৩ মিনিটে কাঙ্ক্ষিত গোলের দেখা পায় ব্রাজিল। ভিনিসিয়ুস জুনিয়রের কাট ইন থেকে হাইতির ডিফেন্ডারদের এলোমেলো অবস্থার সুযোগ নিয়ে বল জালে ঠেলে দেন কুনহা। ডেলক্রোয়ার গায়ে লেগে দিক পরিবর্তন হওয়া বলটি কুনহার শরীরে লেগে রিবাউন্ড হয়ে গোলে ঢুকে যায়।

 

ম্যাচের ৩৬ মিনিটে নিজের দ্বিতীয় গোল করে দলকে - ব্যবধানে এগিয়ে নেন কুনহা। ভিনিসিয়ুসের চমৎকার এক পাস থেকে বল ধরে ডিফেন্ডারদের বোকা বানিয়ে কোনাকুনিভাবে বক্সে ঢোকেন তিনি। এরপর তাঁর বাঁ পায়ের রকেট গতির শটটি সরাসরি জালের ওপরের অংশে আছড়ে পড়লে হাইতি গোলরক্ষকের চেয়ে চেয়ে দেখা ছাড়া কিছুই করার ছিল না। অবশ্য এর তিন মিনিট পরেই হালকা চোট পেয়ে মাঠ ছাড়েন রাফিনহা, তাঁর বদলে মাঠে নামেন রায়ান।

 

প্রথমার্ধের ইনজুরি টাইমে হাইতির কফিনে শেষ পেরেকটি ঠেকান ভিনিসিয়ুস জুনিয়র। লুকাস পাকেতা হাইতির ডিফেন্সের ওপর দিয়ে বল ভাসিয়ে দিলে দারুণ এক সুযোগ পান ভিনি। রিয়াল মাদ্রিদের এই তারকা তীব্র গতিতে পেনাল্টি অঞ্চলে ছুটে গিয়ে অত্যন্ত ঠাণ্ডা মাথায় গোলরক্ষককে পরাস্ত করে বল জালে জড়ান। চলতি বিশ্বকাপে এটি ভিনিসিয়ুসের দ্বিতীয় গোল।

 

প্রথমার্ধেই - ব্যবধানে এগিয়ে যাওয়ার পর ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ পুরোপুরি ব্রাজিলের হাতে চলে যায় এবং এই ব্যবধান ধরে রেখেই পূর্ণ পয়েন্ট নিয়ে মাঠ ছাড়ে তারা। এই জয়ের ফলে স্কটল্যান্ডকে হারিয়ে সাময়িকভাবে শীর্ষে ওঠা মরক্কোকে টপকে গ্রুপের এক নম্বর স্থানটি নিজেদের করে নিলো ব্রাজিল।