ঢাকা দিল্লি উত্তেজনা তুঙ্গে, ভারতের নতুন বার্তা

নিজস্ব প্রতিবেদন
বাংলাদেশ–ভারতের টানাপোড়েনের সম্পর্কের মধ্যেও আসন্ন জাতীয় নির্বাচন দুই দেশের জন্য নতুন সমঝোতার সুযোগ তৈরি করতে পারে বলে মনে করছেন দক্ষিণ এশিয়া বিশ্লেষক মাইকেল কুগেলম্যান। ফরেন পলিসিতে প্রকাশিত এক লেখায় তিনি বলেন, দীর্ঘদিনের দূরত্বের পর ভারত এখন বিএনপি-নেতৃত্বাধীন সম্ভাব্য সরকারের প্রতি তুলনামূলকভাবে ইতিবাচক ইঙ্গিত দিচ্ছে।
কুগেলম্যানের মতে, সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে নরেন্দ্র মোদির শোকবার্তা এবং ঢাকায় জানাজায় এস জয়শঙ্করের উপস্থিতি দিল্লির কৌশলগত অবস্থান বদলের স্পষ্ট বার্তা। পাশাপাশি জামায়াতে ইসলামীর সঙ্গে জোট ছাড়ায় বিএনপি ভারতের কাছে আগের চেয়ে গ্রহণযোগ্য হয়ে উঠেছে।
শেখ হাসিনার ক্ষমতাচ্যুতির পর থেকেই সম্পর্কের অবনতি শুরু হয়, যা কূটনীতি ছাড়িয়ে ক্রীড়াঙ্গনেও প্রভাব ফেলেছে। আইপিএল সম্প্রচার নিষিদ্ধ ও ভারতে বিশ্বকাপ খেলতে না যাওয়ার সিদ্ধান্ত সেই উত্তেজনারই প্রতিফলন।
বিশ্লেষণে বলা হয়, বাংলাদেশে ভারতের রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ নিয়ে ক্ষোভ রয়েছে, আবার ভারতে আশঙ্কা—হাসিনাবিহীন বাংলাদেশে উগ্রপন্থার উত্থান ঘটছে। হাসিনাকে আশ্রয় দেওয়া ও তাকে প্রত্যর্পণে অস্বীকৃতি দুই দেশের দূরত্ব আরও বাড়িয়েছে।
তবে সম্ভাব্য প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের জাতীয় ঐক্যের বার্তা, সংখ্যালঘুদের নিরাপত্তা নিয়ে আশ্বাস এবং বিএনপির ‘সমঅধিকারভিত্তিক’ সম্পর্কের অবস্থান দিল্লিকে নতুন করে ভাবতে বাধ্য করছে।
কুগেলম্যানের উপসংহার—১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচন সম্পর্কের বরফ গলানোর বড় সুযোগ হতে পারে। তবে তা সফল হবে তখনই, যখন ঢাকা ও দিল্লি উভয়ই রাজনৈতিক ঝুঁকি নিয়ে বাস্তবভিত্তিক আপসে এগোতে প্রস্তুত হবে।

Siam Islam
© 2026 দৈনিক ডেসটিনি, সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত।










