আমার মতো আর কারও না হোক—গুলিতে নিহত স্বেচ্ছাসেবক দল নেতার স্ত্রী

নিজস্ব প্রতিবেদন
রাজধানীতে প্রকাশ্যে গুলিতে নিহত ঢাকা মহানগর উত্তর স্বেচ্ছাসেবক দলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক আজিজুর রহমান মুছাব্বিরের স্ত্রী সুরাইয়া বেগম সুষ্ঠু তদন্ত ও দৃষ্টান্তমূলক ব্যবস্থা দাবি করেছেন। তিনি বলেছেন, এই হত্যাকাণ্ডের সঠিক বিচার না হলে ভবিষ্যতে আরও বহু পরিবার তার মতো সর্বস্ব হারাবে।
বৃহস্পতিবার (৮ জানুয়ারি) ঢাকা মেডিকেল কলেজের মর্গের সামনে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলতে গিয়ে তিনি বলেন, এ ধরনের সহিংস ঘটনা আগেও ঘটেছে, এখনও ঘটছে—আর তদন্ত না হলে ভবিষ্যতেও চলতেই থাকবে। তিনি আশা প্রকাশ করেন, সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণের মাধ্যমে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী দ্রুত অপরাধীদের শনাক্ত করে কার্যকর ব্যবস্থা নেবে।
স্বামীর শেষ মুহূর্তের কথা স্মরণ করে সুরাইয়া বলেন, ঘটনার দিন সন্ধ্যায় মুছাব্বির নামাজ পড়ার আগে এক কাপ কফি বানাতে বলেছিলেন—এটাই ছিল তার সঙ্গে শেষ কথা। তিনি জানান, নিরাপত্তার কারণে বাইরে গেলে স্বামী খুব একটা ফোন করতেন না এবং তার মোবাইল নজরদারিতে ছিল বলেই ধারণা করতেন।
কারও বিরুদ্ধে সন্দেহ আছে কি না জানতে চাইলে তিনি বলেন, নির্দিষ্ট কাউকে চিহ্নিত করতে পারছেন না, কারণ তিনি রাজনীতিতে জড়িত ছিলেন না এবং সংসারই সামলাতেন। তিনি জানান, রাজনীতির পাশাপাশি মুছাব্বির প্রায় ২০ বছর ধরে পানির ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত ছিলেন এবং একসময় কাউন্সিলর হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেছেন।
মুছাব্বিরের পরিবারে তিন সন্তান রয়েছে—একজন অনার্স তৃতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী, একজন এসএসসি পরীক্ষার্থী এবং ছোট ছেলে দশম শ্রেণিতে পড়ছে।
পুলিশের তথ্যমতে, বুধবার রাত আটটার পর কাজী নজরুল ইসলাম অ্যাভিনিউয়ের একটি গলিতে অজ্ঞাত বন্দুকধারীরা মুছাব্বিরকে লক্ষ্য করে গুলি চালায়। এ ঘটনায় আরও একজন গুলিবিদ্ধ হন। দুজনকে হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক মুছাব্বিরকে মৃত ঘোষণা করেন।
দীর্ঘদিন বিএনপি ও স্বেচ্ছাসেবক দলের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত মুছাব্বির অতীতে একাধিকবার গ্রেপ্তার ও কারাবরণ করেছিলেন। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, একটি অনুষ্ঠান শেষে ফেরার পথে মোটরসাইকেলযোগে আসা দুর্বৃত্তরা তাকে লক্ষ্য করে গুলি ছোড়ে।

Siam Islam
© 2026 দৈনিক ডেসটিনি, সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত।










