ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শরিফ ওসমান হাদি হত্যা মামলায় মোট ১৭ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দাখিল করেছে গোয়েন্দা পুলিশ। মামলার তদন্তে উঠে এসেছে, আওয়ামী লীগের ওয়ার্ড কাউন্সিলর তাইজুল ইসলাম বাপ্পির পরিকল্পনায় ফয়সাল করিম গুলি চালিয়ে এই হত্যাকাণ্ড ঘটান।

মঙ্গলবার (৬ জানুয়ারি) বিকেলে ডিএমপি মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত ব্রিফিংয়ে অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (ডিবি) মো. শফিকুল ইসলাম জানান, রাজনৈতিকভাবে বিরোধী বক্তব্য দেওয়ার কারণেই হাদিকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হয়। চার্জশিটভুক্ত ১৭ জনের মধ্যে ইতোমধ্যে ১১ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। বাকি ছয়জন—মূল শুটার ফয়সাল করিম মাসুদসহ আলমগীর, তাইজুল ইসলাম বাপ্পি, ফিলিপ, জেসমিন ও মুক্তি এখনও পলাতক।

ডিবি জানায়, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ফয়সালের ভিডিওটি তদন্তে সত্যতা পেয়েছে। এ মামলায় গ্রেপ্তারদের মধ্যে রয়েছেন ফয়সালের বাবা-মা, স্ত্রী, বান্ধবী, শ্যালক, পালাতে সহায়তাকারী কয়েকজন এবং সহযোগীরা।

এর আগে স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) মো. জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী জানান, অন্তর্বর্তী সরকারের সময়েই এই হত্যাকাণ্ডের বিচার সম্পন্ন করা হবে।

উল্লেখ্য, গত ১২ ডিসেম্বর ফয়সালের গুলিতে গুরুতর আহত হন শরিফ ওসমান হাদি। ঢাকায় অস্ত্রোপচারের পর উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে সিঙ্গাপুরে নেওয়া হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ১৮ ডিসেম্বর তিনি মারা যান। ২০ ডিসেম্বর ঢাকায় দাফনের মধ্য দিয়ে তার শেষকৃত্য সম্পন্ন হয়।