মুক্তিযোদ্ধা খালেদা জিয়া

নিজস্ব প্রতিবেদন
বাংলাদেশের স্বাধীনতাযুদ্ধের সূচনালগ্নে মেজর জিয়াউর রহমান যেমন জীবনবাজি রেখে যুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়েছিলেন, তেমনি নীরবে কিন্তু দৃঢ়তার সঙ্গে সেই সংগ্রামের অংশ হয়েছিলেন তার স্ত্রী বেগম খালেদা জিয়াও। পাকিস্তানি বাহিনীর বিরুদ্ধে বিদ্রোহ করে প্রায় ৩০০ সৈন্য নিয়ে যুদ্ধে যাওয়ার সময় পরিবারকে সঙ্গে না নেওয়ার সিদ্ধান্তে জিয়ার যে দৃঢ়তা ছিল, তার পেছনে ছিল খালেদা জিয়ার নিঃশর্ত সমর্থন ও সাহসী ভূমিকা।
যুদ্ধ শুরুর পর দুই শিশু সন্তানকে নিয়ে একের পর এক জায়গায় পালিয়ে বেড়ান খালেদা জিয়া। ধরা পড়লে সেটি যে জিয়াউর রহমানের জন্য বড় ঝুঁকি তৈরি করত— সে বিষয়টি জেনেও তিনি আপস করেননি। অস্ত্র হস্তান্তর ঠেকানো থেকে শুরু করে মুক্তিকামী সেনাদের রক্ষা— একাধিক গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তে তার সিদ্ধান্ত মুক্তিযুদ্ধকে এগিয়ে নিতে ভূমিকা রাখে।
শেষ পর্যন্ত পাকিস্তানি সেনাদের হাতে গ্রেফতার হয়ে সন্তানসহ বন্দি থাকলেও, চাপ ও হুমকির কাছে নতি স্বীকার করেননি তিনি। তার এই দৃঢ়তায় ব্যর্থ হয় শত্রুপক্ষের কৌশল। স্বাধীনতার পর পরিবার আবার একত্রিত হয়, আর ইতিহাসে খালেদা জিয়া স্থান করে নেন একজন সাহসী মুক্তিযুদ্ধ–সহযোগী হিসেবে।
পরবর্তীতে রাষ্ট্রক্ষমতায় এসে তিনি মুক্তিযোদ্ধাদের সম্মান, কল্যাণ ও মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতি সংরক্ষণে গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগ নেন। বীর মুক্তিযোদ্ধাদের স্বীকৃতি, ভাতা বৃদ্ধি, স্মৃতিসৌধ নির্মাণ ও মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয় গঠনের মাধ্যমে তিনি প্রমাণ করেন— মুক্তিযুদ্ধ ছিল তার রাজনৈতিক কৌশল নয়, বরং বিশ্বাস ও আত্মত্যাগের অংশ।

Siam Islam
© 2026 দৈনিক ডেসটিনি, সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত।










