দীর্ঘ ১৭ বছর পর দেশে ফিরেছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। তার সঙ্গে স্বদেশে এসেছেন স্ত্রী ডা. জোবাইদা রহমান ও কন্যা ব্যারিস্টার জাইমা রহমান। এই প্রত্যাবর্তন শুধু দেশের গণমাধ্যমেই নয়, আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমেও ব্যাপক গুরুত্ব পেয়েছে।

ফরাসি বার্তা সংস্থা এএফপি জানিয়েছে, ৬০ বছর বয়সী তারেক রহমান রাজনৈতিক নিপীড়নের অভিযোগ তুলে ২০০৮ সালে লন্ডনে পাড়ি জমান। বর্তমানে তিনি বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান এবং দলটির ভবিষ্যৎ নেতৃত্বে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিতে যাচ্ছেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়। এএফপি আরও জানায়, তার মা ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া গুরুতর অসুস্থ থাকায় দলীয় নেতৃত্ব কার্যত তারেক রহমানের হাতেই কেন্দ্রীভূত হতে পারে।

আল জাজিরার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, তারেক রহমানের দেশে ফেরা উপলক্ষে ঢাকায় বড় ধরনের সমাবেশ আয়োজনের প্রস্তুতি নিয়েছে বিএনপি। শেখ হাসিনার সরকার পতনের পর বিএনপি নতুন রাজনৈতিক গতি পেয়েছে এবং তারেক রহমানকে দলটির প্রধানমন্ত্রীর পদপ্রার্থী হিসেবে এগিয়ে থাকা নেতা হিসেবে দেখা হচ্ছে।

ব্রিটিশ বার্তা সংস্থা রয়টার্স জানিয়েছে, অন্তর্বর্তী সরকারের অধীনে বাংলাদেশ এক গুরুত্বপূর্ণ নির্বাচনী সময় অতিক্রম করছে। বিভিন্ন জরিপে বিএনপির বিজয়ের সম্ভাবনার কথাও উঠে এসেছে। রয়টার্সের মতে, মায়ের অসুস্থতাও তারেক রহমানের দ্রুত দেশে ফেরার অন্যতম কারণ।

এ ছাড়া ভারতীয় গণমাধ্যম এনডিটিভি তারেক রহমানের দীর্ঘ প্রবাসজীবন, পারিবারিক পরিচয় এবং বিদেশে থেকেও বিএনপি পরিচালনার বিষয়টি তুলে ধরে জানিয়েছে, তার লন্ডন থেকে ঢাকাগামী যাত্রার ছবি সামাজিক মাধ্যমে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে।

সব মিলিয়ে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমগুলো তারেক রহমানের প্রত্যাবর্তনকে বাংলাদেশের রাজনীতিতে একটি তাৎপর্যপূর্ণ ও প্রতীকী ঘটনা হিসেবে দেখছে, যা আসন্ন নির্বাচন ও রাজনৈতিক ভারসাম্যে বড় প্রভাব ফেলতে পারে বলে তাদের বিশ্লেষণ।