ভূগর্ভস্থ পানির স্তর নেমে যাওয়ায় বরেন্দ্র অঞ্চলে নলকূপ বসানো এখন বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। পানির সন্ধানে একাধিক স্থানে বোরিং করতে গিয়ে সৃষ্টি হচ্ছে অসংখ্য গভীর গর্ত, যেগুলোর বড় অংশই অরক্ষিত অবস্থায় পড়ে থাকে। এসব পরিত্যক্ত গর্ত শিশুদের জন্য মারাত্মক ঝুঁকি তৈরি করছে যার নির্মম উদাহরণ দুই বছরের শিশু সাজিদের মৃত্যু।


রাজশাহী, চাঁপাইনবাবগঞ্জ ও নওগাঁ জেলার বিভিন্ন উপজেলায় শত শত পরিত্যক্ত নলকূপের গর্ত রয়েছে। এসব গর্তের সঠিক সংখ্যা সম্পর্কে কোনো দপ্তরের কাছেই নির্ভরযোগ্য তথ্য নেই। গত ১০ ডিসেম্বর রাজশাহীর তানোর উপজেলার কোয়েলহাট গ্রামে এমনই একটি পরিত্যক্ত গর্তে পড়ে সাজিদের মৃত্যু হয়। প্রায় ৩২ ঘণ্টা উদ্ধার অভিযান শেষে শিশুটিকে মৃত অবস্থায় উদ্ধার করে ফায়ার সার্ভিস।


স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, পানির স্তর নিচে নেমে যাওয়ায় একবারে নলকূপ স্থাপন সম্ভব হয় না। বারবার বোরিং করতে গিয়ে গর্ত তৈরি হয়, যা অনেক সময় বন্ধ না করেই ফেলে রাখা হয়। বিশেষ করে ব্যক্তিমালিকানাধীন সেমিডিপ নলকূপ স্থাপনের ক্ষেত্রে এই প্রবণতা বেশি। আইন অনুযায়ী এসব নলকূপ বসানোর অনুমতি না থাকলেও অর্থের বিনিময়ে অনেক ক্ষেত্রে অনুমোদন নেওয়া হয় বা অনুমতি ছাড়াই স্থাপন করা হয়।


বরেন্দ্র বহুমুখী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (বিএমডিএ) ২০১৫ সাল থেকে নতুন গভীর নলকূপ স্থাপন বন্ধ রাখলেও ব্যক্তিগত উদ্যোগে সেমিডিপ বসানো থামেনি। ফলে সেচের পাশাপাশি বাড়ি, খামার ও মাছ চাষের জন্যও অবৈধভাবে নলকূপ ব্যবহার বাড়ছে। সরকারি হিসাবে শুধু তানোর উপজেলাতেই অনুমোদনহীন প্রায় আড়াই হাজার সেমিডিপ রয়েছে বলে জানা গেছে।


ভূগর্ভস্থ পানির ভয়াবহ সংকটের কারণে রাজশাহী, নওগাঁ ও চাঁপাইনবাবগঞ্জের প্রায় পাঁচ হাজার মৌজায় খাওয়ার পানি ছাড়া অন্য কাজে ভূগর্ভস্থ পানি উত্তোলন নিষিদ্ধ করেছে সরকার। তবুও অবৈধ নলকূপ স্থাপন ও পরিত্যক্ত গর্তের ঝুঁকি কমেনি। এ ঘটনায় তানোর উপজেলা প্রশাসন অবৈধ ও পরিত্যক্ত গর্ত চিহ্নিত করে ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দিয়েছে।


বিএমডিএও বিষয়টি তদন্তের প্রয়োজনীয়তার কথা বলেছে। তবে স্থানীয়দের দাবি, সাজিদের মৃত্যুই প্রমাণ করে এই মৃত্যুকূপগুলো দ্রুত বন্ধ না করলে আরও প্রাণহানি ঘটতে পারে।