খালেদা জিয়ার জন্য ‘উদ্বিগ্ন’ শেখ হাসিনা

নিজস্ব প্রতিবেদন
ভারতের বেশ কয়েকটি সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে, দিল্লিতে নির্বাসনে থাকা বাংলাদেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা বর্তমানে হাসপাতালে ভর্তি বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার গুরুতর অসুস্থতা নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন।
আইএএনএস–কে পাঠানো এক বিশেষ ইমেইল বার্তায় শেখ হাসিনা জানান, খালেদা জিয়ার অবনতিশীল স্বাস্থ্যের খবর তাকে মর্মাহত করেছে এবং তিনি চান খালেদা দ্রুত সুস্থ হয়ে উঠুন। খালেদা জিয়ার চিকিৎসা ও নিরাপত্তা ব্যবস্থা সম্পর্কিত প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, “বেগম জিয়া অসুস্থ শুনে আমি খুব ব্যথিত। তাঁর সুস্থতার জন্য আন্তরিক শুভকামনা রইল।”
বাংলাদেশের পাঁচ দশকেরও বেশি রাজনৈতিক ইতিহাসে সবচেয়ে বেশি সময় ক্ষমতায় ছিলেন এই দুই নেতা—খালেদা জিয়া ও শেখ হাসিনা মিলিয়ে তিন দশকেরও দীর্ঘ সময় দেশ পরিচালনা করেছেন। ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থনের পর শেখ হাসিনার টানা ১৫ বছরের শাসন সমাপ্ত হয় এবং তিনি ভারতে আশ্রয় নেন। একই সময়ে রাজনৈতিক পরিবর্তনের সুযোগে খালেদা জিয়া সম্পূর্ণ মুক্তি পান এবং দুর্নীতির মামলাগুলো থেকেও খালাস লাভ করেন। অন্যদিকে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল মানবতাবিরোধী অপরাধে শেখ হাসিনাকে মৃত্যুদণ্ড দেয় এবং আরও দুটি দুর্নীতি মামলায় সাজা ঘোষণা করে।
এছাড়া ২০০৪ সালের গ্রেনেড হামলা নিয়ে আওয়ামী লীগ দীর্ঘদিন ধরে দাবি করে আসছে যে, সে সময়ের বিএনপি সরকার ওই হামলার দায় এড়াতে পারে না—দুই পক্ষের এই রাজনৈতিক বৈরিতা এখনও আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু।
৭৯ বছর বয়সী খালেদা জিয়া বহু বছর ধরেই হৃদরোগ, ডায়াবেটিস, আর্থ্রাইটিস, লিভার সিরোসিস ও কিডনি জটিলতাসহ নানা দীর্ঘমেয়াদি রোগে ভুগছেন। গত ২৩ নভেম্বর ঢাকার এভারকেয়ার হাসপাতালে নিয়মিত পরীক্ষা করাতে নেওয়া হলে তাঁর ফুসফুসে নতুন সংক্রমণ ধরা পড়ে। এরপর থেকে তিনি সিসিইউতে চিকিৎসাধীন আছেন এবং বিএনপি জানাচ্ছে, তাঁর শারীরিক অবস্থা অত্যন্ত নাজুক।
দেশি-বিদেশি বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের সমন্বয়ে একটি মেডিকেল টিম তাঁর চিকিৎসা পরিচালনা করছে। উন্নত সেবা নিশ্চিতের জন্য তাঁকে লন্ডনে নেওয়ার চিন্তা থাকলেও হঠাৎ অবস্থার অবনতি হওয়ায় এখনই সেই যাত্রা সম্ভব হয়নি।
বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, খালেদা জিয়াকে বিদেশে নেওয়ার সিদ্ধান্ত মেডিকেল বোর্ডের মূল্যায়ন ও তাঁর শারীরিক সক্ষমতার ওপর নির্ভর করছে—বিশেষ করে তিনি বিমানযাত্রার উপযুক্ত কি না, সেটিই মূল বিবেচনার বিষয়।
উল্লেখ্য, ২০১৮ সালে আওয়ামী লীগ সরকারের সময় এক দুর্নীতি মামলায় খালেদা জিয়াকে কারাগারে পাঠানো হয়। পরে মহামারির প্রেক্ষাপটে দুই বছর পরে শর্তসাপেক্ষে দণ্ড স্থগিত করে সরকার তাঁকে সাময়িক মুক্তি দেয়। তবে বিদেশে চিকিৎসার অনুমতি সে সময়ে দেওয়া হয়নি।

Siam Islam
© 2026 দৈনিক ডেসটিনি, সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত।










