দেশের প্রধান মালবাহী রুট চট্টগ্রাম বন্দর থেকে ঢাকায় কনটেইনার ট্রেন চলাচল গত কয়েক বছরে অর্ধেকেরও বেশি কমে গেছে। আগে যেখানে মাসে ১২০টির মতো ট্রেন চলত, বর্তমানে সংখ্যা নেমে এসেছে ৫০-৬০টিতে। ফলে বাংলাদেশ রেলওয়ের লাভজনক পণ্য পরিবহন খাত বড় ধরনের সংকটে পড়েছে।


রেল কর্মকর্তাদের মতে, কার্যকর লোকোমোটিভের ঘাটতি এখন সবচেয়ে বড় সমস্যা। রেলওয়ের বহরে থাকা ২৮১টি ইঞ্জিনের প্রায় ৯০টিই অচল অবস্থায়। পূর্বাঞ্চলে পণ্য পরিবহন বেশি হলেও এখানেই অচল ইঞ্জিনের সংখ্যা সবচেয়ে বেশি। লোকোমোটিভ না থাকায় অনেক সময় যাত্রীবাহী ট্রেন চালাতে পণ্যবাহী ট্রেনের ইঞ্জিন খুলে নিতে হয়, এতে মাল পরিবহনে দেরি হচ্ছে এবং গ্রাহকরা নির্ভরযোগ্য সেবা পাচ্ছেন না।


এর ফলে শিল্প প্রতিষ্ঠানের ব্যয় বাড়ছে। আগে যেখানে কনটেইনার সিরিয়াল পেতে দুই দিন অপেক্ষা করতে হতো, এখন তা এক সপ্তাহ পর্যন্ত সময় নিচ্ছে। আমদানি-রপ্তানিকারকদের অতিরিক্ত পোর্ট চার্জও গুনতে হচ্ছে। জ্বালানি পরিবহনেও একই সমস্যা দেখা দিয়েছে রেলপথ সাশ্রয়ী হলেও ইঞ্জিন সঙ্কটের কারণে অনেক ক্ষেত্রেই নৌ ও সড়কপথে পণ্য নিতে হচ্ছে।


এক বছরেরও বেশি সময় ধরে রেলওয়ের লোকোমোটিভ সঙ্কটের কারণে সার পরিবহন কার্যত বন্ধ। এতে শিল্প ও কৃষি খাতের ব্যয় আরও বাড়ছে।


২০০৯ থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত রেলওয়ের বড়ধরনের অবকাঠামো প্রকল্প হলেও নতুন লোকোমোটিভ সংগ্রহ হয়েছে খুবই সীমিত মাত্র ৪০টি। রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ বলছে, ইঞ্জিন মেরামত এবং নতুন ইঞ্জিন আমদানির প্রকল্প হাতে নেওয়া হয়েছে। এসব বাস্তবায়িত হলে মালবাহী ট্রেন সেবা আবার স্বাভাবিক হতে পারে।