আট কুকুরছানা হত্যা মামলা দায়ের: সরকারি কর্মকর্তার স্ত্রী গ্রেপ্তার

নিজস্ব প্রতিবেদন
পাবনার ঈশ্বরদীতে আটটি কুকুরছানাকে বস্তাবন্দি করে পুকুরে ফেলে হত্যার ঘটনায় উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা আকলিমা খাতুন বাদী হয়ে মামলা দায়ের করেছেন। ‘প্রাণী কল্যাণ আইন, ২০১৯’–এর ৭ ধারায় দায়ের হওয়া মামলাটির নম্বর ৮। মামলার পর রাতেই পুলিশ অভিযুক্ত নিশি রহমানকে গ্রেপ্তার করে।
ঈশ্বরদী সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার প্রণব কুমার জানান, মঙ্গলবার গভীর রাতে পৌরসদরের রহিমপুর এলাকায় একটি ভবন থেকে নিশিকে আটক করা হয়। আইনগত প্রক্রিয়া শেষে তাকে আদালতে পাঠানো হবে।
ঘটনাটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক সমালোচনার পর মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা ও মহাপরিচালক বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করেন এবং মামলা করার নির্দেশ দেন। প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা আকলিমা খাতুন বলেন, এটি অমানবিক ঘটনা এবং দেশের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করেছে, তাই দায়ীদের ছাড় দেওয়া হবে না।
এ ঘটনার পর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ক্ষুদ্র কৃষক ফাউন্ডেশনের কর্মকর্তা হাসানুর রহমান নয়নকে বাসা ছাড়ার লিখিত নির্দেশ দেন। তারা মঙ্গলবার বিকেলে কোয়ার্টার খালি করে চলে যান।
নিশি রহমান সাংবাদিকদের দাবি করেন, ছানাগুলো বাসার পাশে অবস্থান করে বিরক্ত করত, তাই তিনি সেগুলোকে ব্যাগে ভরে পুকুরের ধারে রেখে আসেন—পুকুরে কীভাবে পড়েছে তা জানেন না। তবে নয়নের ছেলে কর্মচারীদের জানায়, ছানাগুলোকে তাদের মা-ই বস্তায় ভরে পুকুরে ফেলেছেন।
প্রসঙ্গত, ইউএনওর বাসভবনের পাশে থাকা ‘টম’ নামের কুকুরটি এক সপ্তাহ আগে আটটি বাচ্চা জন্ম দেয়। ছানাগুলো নিখোঁজ হওয়ার পর মা কুকুরের কান্না ও ছুটোছুটি স্থানীয়দের দৃষ্টি আকর্ষণ করে। পরে পুকুর থেকে একটি বস্তায় আটটি মৃত ছানা উদ্ধার করা হয়। মা কুকুরটি শোকে অসুস্থ হয়ে পড়ে এবং প্রাণিসম্পদ বিভাগের কর্মীরা তাকে চিকিৎসা দেন।

Siam Islam
© 2026 দৈনিক ডেসটিনি, সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত।










