কারাগারে ইমরানের খানের মৃত্যুর গুজব

নিজস্ব প্রতিবেদন
পাকিস্তানের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বর্তমানে কারাবন্দি পিটিআই চেয়ারম্যান ইমরান খানের মৃত্যুর গুজব ছড়িয়ে পড়ার মধ্যেই নতুন করে আলোচনায় এসেছে তার পরিবারের অভিযোগ। ইমরান খানের তিন বোন—নরীন খান, আলীমা খান ও উজমা খান—অভিযোগ করেছেন, ভাইয়ের সঙ্গে সাক্ষাতের অনুমতি চাইতে গিয়ে তারা নৃশংস পুলিশি হামলার শিকার হয়েছেন।
তারা জানান, রাওয়ালপিন্ডির আদিয়ালা কারাগারের বাইরে শান্তিপূর্ণভাবে অবস্থান নিয়ে ইমরান খানের খোঁজ ও সাক্ষাতের দাবি জানালেই পুলিশ তাদের ওপর অতর্কিত হামলা চালায়। পিটিআইর পক্ষ থেকেও একই অভিযোগ তুলে বলা হয়েছে, নেতার সঙ্গে দেখা করার দাবিই তাদের “অপরাধ” হয়ে দাঁড়িয়েছে।
‘পরিকল্পিত হামলা’—ইমরানের বোনদের অভিযোগ
পাঞ্জাব পুলিশের প্রধানকে লেখা এক চিঠিতে ইমরানের তিন বোন দাবি করেন, কোনো ধরনের উসকানি ছাড়াই পুলিশ স্ট্রিটলাইট বন্ধ করে নারীদের ওপর পরিকল্পিতভাবে হামলা চালায়।
নরীন খান অভিযোগ করেন,
“৭১ বছর বয়সে আমাকে চুল ধরে টেনে ফেলে মারধর করা হয়েছে। অন্য নারীদেরও টেনে হিঁচড়ে নিয়ে যায় পুলিশ।”
তাদের মতে, তারা রাস্তা অবরোধ বা কোনো বেআইনি কাজ করেননি—শুধু ইমরান খানের শারীরিক অবস্থার উদ্বেগ জানিয়ে শান্তিপূর্ণ অবস্থান কর্মসূচি করছিলেন।
কারাবন্দি ইমরান খান—বিচ্ছিন্নতায় রাখা হচ্ছে অভিযোগ
২০২৩ সালের আগস্ট থেকে বিভিন্ন মামলায় অভিযুক্ত হয়ে আদিয়ালা কারাগারে আছেন ইমরান খান। পিটিআই বলছে, গত তিন সপ্তাহেরও বেশি সময় ধরে তার পরিবারের কেউ তার সঙ্গে দেখা করতে পারছেন না।
দলের দাবি, ইমরান খানকে একেবারে বিচ্ছিন্ন অবস্থায় একক কক্ষে রাখা হয়েছে। বই, প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র ও আইনজীবীদের সঙ্গে সাক্ষাতের সুযোগও সীমিত করে দেওয়া হয়েছে।
তার আইনজীবী খালিদ ইউসুফ চৌধুরী বলেন,
“এখানে যেন জঙ্গলের আইন—ক্ষমতাশালীরই সব অধিকার।”
এমনকি খাইবার–পাখতুনখোয়ার মুখ্যমন্ত্রী সোহেল আফ্রিদিও টানা সাতবার চেষ্টা করেও ইমরান খানের সঙ্গে সাক্ষাতের অনুমতি পাননি। কারাগারের নিয়ন্ত্রণ সেনাবাহিনীর একজন কর্মকর্তার হাতে রয়েছে বলেও অভিযোগ উঠেছে।
নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি
পিটিআই ইমরানের তিন বোন ও দলের নেতাকর্মীদের ওপর পুলিশের হামলার নিরপেক্ষ তদন্ত দাবি করেছে। একইসঙ্গে কারাগারে ইমরান খানের নিরাপত্তা ও স্বাস্থ্যের বিষয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে দলটি।

Siam Islam
© 2026 দৈনিক ডেসটিনি, সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত।










